নিহত বাংলাদেশিদের স্বজনরা হয়রানির শিকার, মরদেহ দেশে ফেরাতে বিলম্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলকাতার নিউমার্কেটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিয়েছে। সেখানকার নিউমার্কেট থানা জিডির কপি ইস্যু না করায় নিহতদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বিলম্ব হচ্ছে। এমন ঘটনায় রীতিমত হয়রান নিহতের স্বজনরা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জিডির কপি না আসায় নিহতদের মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হচ্ছে। তবে শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই মরদেহগুলো দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে পেপার ওয়ার্ক শেষ করতে চায় কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন কর্তপক্ষ। আগামী শনিবারের (২২ আগস্ট) মধ্যে মরদেহ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে।

এদিকে কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। তারা হলেন-কুষ্টিয়ার বাসিন্দা আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সি সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু।

অন্যদিকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের পরিবারের ইচ্ছে অনুযায়ী তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কলকাতায় করা হতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন জানিয়েছে, রেবতী সরকারের ছেলে জানিয়েছেন, তারা তার মায়ের দেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে আগ্রহী। আমরা তাদের জানিয়েছি, এটার জন্য স্থানীয় (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি আমরা ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবো। সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মৃত রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার জানান, প্রয়োজনীয় নথি এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ মায়ের মরদেহ আমাদের হাতে হস্তান্তর করবে। এরপর আমাদের ইচ্ছা এখানেই সৎকার করব।

প্রসঙ্গত, কলকাতার হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম গঠন করেছে রাজ্য সরকার। তদন্তকারীরা ইতোমধ্যেই নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন । কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্ট চলে আসার পরেও এবং দূতাবাসের চিঠি পাওয়ার পরেও জিডির কপি ইস্যু করেনি নিউমার্কেট থানা।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার কারণে এই শোকজ নোটিশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে ৯টি আবাসিক হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছিল পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। সব মিলিয়ে মোট ২৬টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হলো।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন